আজীজ, খানবাহাদুর আবদুল


আজীজ, খানবাহাদুর আবদুল (১৮৬৩-১৯২৬)   শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।  ফেনী জেলায় তাঁর জন্ম। তার পিতা আমজাদ আলী ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী। আবদুল আজীজ  ঢাকা কলেজ থেকে বিএ (১৮৮৬) পাস করে শিক্ষক হিসেবে প্রাদেশিক সরকারের শিক্ষা বিভাগে যোগদান করেন; পরে পদোন্নতি লাভ করে সাব স্কুল ইনস্পেক্টর হন। তিনি বৃহত্তর  নোয়াখালী জেলার মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট ছিলেন।

আধুনিক শিক্ষায় আলোকপ্রাপ্ত আবদুল আজীজ সমাজের উন্নতির জন্য শিক্ষার গুরুত্ব ছাত্রজীবনেই উপলব্ধি করেছিলেন। বিশেষত পশ্চাৎপদ মুসলমান সমাজে শিক্ষা বিস্তার অতি আবশ্যক বলে তিনি মনে করতেন। এজন্য কলেজে পড়া অবস্থায়ই তিনি সতীর্থ ও অন্যান্য বন্ধু নিয়ে  ঢাকা মুসলমান সুহূদ সম্মিলনী (১৮৮৩) নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল ‘মুক্ত বিদ্যালয়’ (open school) পদ্ধতিতে গ্রামগঞ্জের মেয়েদের শিক্ষা দান করা। এ কাজে তাঁরা প্রথম কয়েক বছর সফলও হয়েছিলেন।

আবদুল আজীজ কর্মজীবনে প্রবেশ করে মুসলমান সমাজকে শিক্ষা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য চট্টগ্রামে মোসলমান শিক্ষাসভা (১৯০০) স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রাম শহরে ভিক্টোরিয়া ইসলাম হোস্টেল, কবিরুদ্দীন মেমোরিয়াল লাইব্রেরি, ফ্রি ইসলামিয়া রিডিং রুম ইত্যাদি গড়ে তুলতে সক্ষম হন। এসব তাঁর শিক্ষাচিন্তা ও শিক্ষানুরাগেরই ফল। তিনি সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে নোয়াখালীতে আঞ্জুমানে আশআতে ইসলাম (১৮৯৬) নামে অপর একটি সংগঠনও গড়েছিলেন।

আবদুল আজীজ ছিলেন একজন সাহিত্য মনস্ক ব্যক্তি। তিনি শিক্ষাগুরু ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দীর মৃত্যুতে ওবেদী বিয়োগ (১৮৮৪) নামে একটি দীর্ঘ শোক-কবিতা রচনা করেন। কবিতা কলিকা (১৮৮৫) তাঁর অপর কাব্যগ্রন্থ। মায়াদনোল উলুম (১৮৯২, ২য় সং) নামে মুসলমান সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক আচরণ-বিধি সংক্রান্ত তাঁর একটি অনুবাদ গ্রন্থ আছে।  হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও তাঁর ভগ্নী  শামসুন্নাহার মাহমুদ ছিলেন  আবদুল  আজীজের দৌহিত্র-দৌহিত্রী।  কাজী নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে এলে এ পরিবারে আতিথ্য গ্রহণ করতেন। আবদুল আজীজের মৃত্যুতে নজরুল ‘বাংলার আজীজ’ নামে একটি শোকগাথা রচনা করেন। কর্মদক্ষতা, শিক্ষা ও সমাজ সেবার পুরস্কারস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খানবাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।  [ওয়াকিল আহমদ]