"আগা মুহম্মদ বাকের, মির্যা"-এর বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য


(Added Ennglish article link)
 
(Text replacement - "\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]" to "[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]")
 
১২ নং লাইন: ১২ নং লাইন:
 
আগা বাকের সম্ভবত ১৭৪২ সালের গোড়ার দিকে কোনো এক সময় আলীবর্দীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে বুযুর্গ উমেদপুর ও সলিমাবাদ পরগনার জায়গির প্রদান করা হয়। ১৭৫৪ সালে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত আগা বাকের তাঁর জায়গিরে বহাল ছিলেন। আগা বাকের বুযুর্গ উমেদপুরে একটি বড় গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁরই নামে এ গঞ্জের নামকরণ হয় বাকেরগঞ্জ। বাকেরগঞ্জ তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-শহর রূপে গড়ে ওঠে এবং সেখানে পারসিক ও আর্মেনীয় বণিক এবং কাশ্মীরি খাজারা লবণ ও চামড়ার ব্যবসা করতেন। আগা বাকের সম্ভবত ঢাকায় অবস্থান করে তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে জমিদারি পরিচালনা করতেন।
 
আগা বাকের সম্ভবত ১৭৪২ সালের গোড়ার দিকে কোনো এক সময় আলীবর্দীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে বুযুর্গ উমেদপুর ও সলিমাবাদ পরগনার জায়গির প্রদান করা হয়। ১৭৫৪ সালে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত আগা বাকের তাঁর জায়গিরে বহাল ছিলেন। আগা বাকের বুযুর্গ উমেদপুরে একটি বড় গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁরই নামে এ গঞ্জের নামকরণ হয় বাকেরগঞ্জ। বাকেরগঞ্জ তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-শহর রূপে গড়ে ওঠে এবং সেখানে পারসিক ও আর্মেনীয় বণিক এবং কাশ্মীরি খাজারা লবণ ও চামড়ার ব্যবসা করতেন। আগা বাকের সম্ভবত ঢাকায় অবস্থান করে তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে জমিদারি পরিচালনা করতেন।
  
আগা বাকের ও তাঁর পুত্র আগা সাদেক মুর্শিদাবাদ প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন এবং তারা স্পষ্টতই ছিলেন ঢাকার নায়েব নাযিম নওয়াজেশ মুহম্মদ খানের বিরোধী সিরাজউদ্দৌলার অনুসারী। নওয়াজেশ মুহম্মদ খান তাঁর প্রতিনিধি হোসেন কুলী খানের মাধ্যমে ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। পরবর্তী সময়ে হোসেন কুলী খান ভ্রাতুষ্পুত্র হোসেনউদ্দিন খানকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে মুর্শিদাবাদ চলে যান। সিরাজউদ্দৌলা হোসেন কুলী খান ও হোসেনউদ্দীন খানকে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি গোপনে মুর্শিদাবাদের রাজপথে হোসেন কুলী খানকে কৌশলে হত্যা করান এবং পরে তাঁর অনুসারী আগা সাদেকের সহায়তায় ১৭৫৪ সালে ঢাকায় হোসেনউদ্দীন খানকে হত্যা করান। নিহত হোসেনউদ্দীনের আত্মীয় এবং ঢাকা শহরের কোতোয়াল মির্জা আলী নকী এ হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য শহরের লোকজন নিয়ে আগা বাকেরের বাড়ি আক্রমণ করেন। আগা সাদেক তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে রেখে পেছনের দরজা দিয়ে গোপনে পালিয়ে যান। ক্ষিপ্ত জনতা আগা বাকেরকে হত্যা করে (১৭৫৪)। ঢাকার আগা সাদেক ময়দানের উত্তর পার্শ্বে একটি সমাধিতে আগা বাকের সমাহিত আছেন। [মুয়ায্যম হুসায়ন খান]
+
আগা বাকের ও তাঁর পুত্র আগা সাদেক মুর্শিদাবাদ প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন এবং তারা স্পষ্টতই ছিলেন ঢাকার নায়েব নাযিম নওয়াজেশ মুহম্মদ খানের বিরোধী সিরাজউদ্দৌলার অনুসারী। নওয়াজেশ মুহম্মদ খান তাঁর প্রতিনিধি হোসেন কুলী খানের মাধ্যমে ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। পরবর্তী সময়ে হোসেন কুলী খান ভ্রাতুষ্পুত্র হোসেনউদ্দিন খানকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে মুর্শিদাবাদ চলে যান। সিরাজউদ্দৌলা হোসেন কুলী খান ও হোসেনউদ্দীন খানকে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি গোপনে মুর্শিদাবাদের রাজপথে হোসেন কুলী খানকে কৌশলে হত্যা করান এবং পরে তাঁর অনুসারী আগা সাদেকের সহায়তায় ১৭৫৪ সালে ঢাকায় হোসেনউদ্দীন খানকে হত্যা করান। নিহত হোসেনউদ্দীনের আত্মীয় এবং ঢাকা শহরের কোতোয়াল মির্জা আলী নকী এ হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য শহরের লোকজন নিয়ে আগা বাকেরের বাড়ি আক্রমণ করেন। আগা সাদেক তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে রেখে পেছনের দরজা দিয়ে গোপনে পালিয়ে যান। ক্ষিপ্ত জনতা আগা বাকেরকে হত্যা করে (১৭৫৪)। ঢাকার আগা সাদেক ময়দানের উত্তর পার্শ্বে একটি সমাধিতে আগা বাকের সমাহিত আছেন। [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]
  
 
[[en:Aga Muhammad Bakar, Mirza]]
 
[[en:Aga Muhammad Bakar, Mirza]]

২২:২৩, ১৭ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে সম্পাদিত বর্তমান সংস্করণ

আগা মুহম্মদ বাকের, মির্যা  পারস্য থেকে বাংলায় আগত এক অভিজাত সরকারী কর্মকর্তা। তিনি ছিলেন বুযুর্গ উমেদপুর ও সলিমাবাদ পরগনার প্রভাবশালী জমিদার। মুগল আমলের এ দুটি পরগনা বৃহত্তর বরিশাল জেলার বিশাল অংশে বিস্তৃত ছিল। আগা বাকের ছিলেন নবাব সরফরাজ খানের অধীনে উড়িষ্যার নায়েব নাযিম মুর্শিদকুলী খান রুস্তম জং-এর জামাতা। উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে রুস্তম জং ও আলীবর্দী খানের মধ্যকার সংঘর্ষে দৃঢ়চেতা ও সাহসী হিসেবে পরিচিত আগা বাকেরের দুঃসাহসী ভূমিকা ছিল।

গিরিয়ার যুদ্ধে সরফরাজ খানের পতনের পর আলীবর্দী খান সুবা বাংলার নবাব হন। কিন্তু উড়িষ্যা তখন সুবা বাংলার অন্তর্ভুক্ত হলেও আলীবর্দী খান তা অধিকার করতে পারেন নি। উড়িষ্যার নায়েব নাযিম রুস্তম জং আলীবর্দীর আধিপত্য অস্বীকার করেন এবং আলীবর্দীর নিকট থেকে বাংলা পুনরুদ্ধারের জন্য মির্যা বাকেরসহ এক বিশাল বাহিনী নিয়ে কটক থেকে বালাশোর অভিমুখে অগ্রসর হন। তিনি ফুলওয়ারীতে শিবির স্থাপন করেন (ডিসেম্বর ১৭৪০)। আলীবর্দী খান ১৭৪১ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সৈয়দ আহমদ খান সওলত জংসহ এক বিশাল বাহিনী নিয়ে রাজধানী থেকে রওনা হন এবং রুস্তম জংয়ের শিবির থেকে তিন মাইল দূরবর্তী রামচন্দ্রপুরে শিবির স্থাপন করেন।

মির্যা বাকের প্রথম আক্রমণ পরিচালনা করেন এবং দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধ হয়। ১৭৪১ সালের ৩ মার্চ রুস্তম জং যুদ্ধে পরাজিত হন এবং মির্জা বাকের মারাত্মকভাবে আহত হন। রুস্তম জং তাঁর আহত জামাতা মির্জা বাকেরকে নিয়ে মসলিপট্টমে পলায়ন করেন। তাঁর পরিবারবর্গ বড়বতি দুর্গে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকেন। রুস্তম জংয়ের বন্ধু খুর্দার রাজার সময়োচিত হস্তক্ষেপের ফলে তাদের পরিবারবর্গ আলীবর্দীর সৈন্যদের কবল থেকে রক্ষা পায়। রুস্তম জঙ্গের সেনাপতি শাহ মুরাদ তাদের নিরাপদে গঞ্জম জেলার ইচাপুরে সরিয়ে নেন এবং পরে মির্জা বাকেরের নিকট পৌঁছে দেন। দাক্ষিণাত্যে তাদের নিঃস্ব অবস্থায় চরম দুঃখকষ্টের মধ্যে কালাতিপাত করতে হয়। আলীবর্দী খান উড়িষ্যা অধিকার করেন এবং  তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সৈয়দ আহমদ সওলত জংকে উড়িষ্যার নায়েব নাযিম নিযুক্ত করে মুর্শিদাবাদে ফিরে যান।

সওলত জং অচিরেই উড়িষ্যায় তাঁর অবস্থান দুর্বল করে তোলেন। তাঁর কিছু অপরিণামদর্শী কার্যক্রমের ফলে উড়িষ্যার পুরনো রাজকর্মচারী এবং রুস্তম জংয়ের সমর্থকরা সুযোগ বুঝে মির্যা আগা বাকেরকে উড়িষ্যা আক্রমণের জন্য আমন্ত্রন জানান। এদিকে উড়িষ্যায় সওলত জংয়ের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সৈন্যরা তাদের বেতন হ্রাসের ফলে অসন্তোষের কারণে নায়েব নাযিমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এ সুযোগে মির্যা বাকের ১৭৪১ সালের আগস্ট মাসে মীর হাবিবসহ এক মারাঠা পদাতিক বাহিনী নিয়ে কটকে পৌঁছেন। তিনি সওলত জংকে তার পরিবার পরিজনসহ বন্দি করে বড়বতি দুর্গে আটক রাখেন। অচিরেই তিনি মেদিনীপুর ও হিজলি দখল করে নেন।

আলীবর্দী এ সংবাদ পেয়ে উড়িষ্যা অভিমুখে অভিযান করেন এবং মহানদীর দক্ষিণ তীরবর্তী রায়পুরে এক যুদ্ধে মির্যা বাকেরকে পরাজিত করেন (ডিসেম্বর ১৭৪১)। খুর্দার রাজার সেনাপতি মুরাদ খানের সহায়তায় মির্যা বাকের কোনরকমে বন্দিত্ব এড়াতে সক্ষম হন এবং তাঁর সহযোগী মারাঠা সৈন্যদের নিয়ে চম্পাগতির পথে দাক্ষিণাত্যে পলায়ন করেন।

আগা বাকের সম্ভবত ১৭৪২ সালের গোড়ার দিকে কোনো এক সময় আলীবর্দীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে বুযুর্গ উমেদপুর ও সলিমাবাদ পরগনার জায়গির প্রদান করা হয়। ১৭৫৪ সালে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত আগা বাকের তাঁর জায়গিরে বহাল ছিলেন। আগা বাকের বুযুর্গ উমেদপুরে একটি বড় গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁরই নামে এ গঞ্জের নামকরণ হয় বাকেরগঞ্জ। বাকেরগঞ্জ তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-শহর রূপে গড়ে ওঠে এবং সেখানে পারসিক ও আর্মেনীয় বণিক এবং কাশ্মীরি খাজারা লবণ ও চামড়ার ব্যবসা করতেন। আগা বাকের সম্ভবত ঢাকায় অবস্থান করে তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে জমিদারি পরিচালনা করতেন।

আগা বাকের ও তাঁর পুত্র আগা সাদেক মুর্শিদাবাদ প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন এবং তারা স্পষ্টতই ছিলেন ঢাকার নায়েব নাযিম নওয়াজেশ মুহম্মদ খানের বিরোধী সিরাজউদ্দৌলার অনুসারী। নওয়াজেশ মুহম্মদ খান তাঁর প্রতিনিধি হোসেন কুলী খানের মাধ্যমে ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। পরবর্তী সময়ে হোসেন কুলী খান ভ্রাতুষ্পুত্র হোসেনউদ্দিন খানকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে মুর্শিদাবাদ চলে যান। সিরাজউদ্দৌলা হোসেন কুলী খান ও হোসেনউদ্দীন খানকে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি গোপনে মুর্শিদাবাদের রাজপথে হোসেন কুলী খানকে কৌশলে হত্যা করান এবং পরে তাঁর অনুসারী আগা সাদেকের সহায়তায় ১৭৫৪ সালে ঢাকায় হোসেনউদ্দীন খানকে হত্যা করান। নিহত হোসেনউদ্দীনের আত্মীয় এবং ঢাকা শহরের কোতোয়াল মির্জা আলী নকী এ হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য শহরের লোকজন নিয়ে আগা বাকেরের বাড়ি আক্রমণ করেন। আগা সাদেক তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে রেখে পেছনের দরজা দিয়ে গোপনে পালিয়ে যান। ক্ষিপ্ত জনতা আগা বাকেরকে হত্যা করে (১৭৫৪)। ঢাকার আগা সাদেক ময়দানের উত্তর পার্শ্বে একটি সমাধিতে আগা বাকের সমাহিত আছেন। [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]