আকুপাঙ্কচার


আকুপাঙ্কচার (Acupuncture) শরীরের কিছু কিছু নির্দিষ্ট বিন্দুতে সরু সুচ ঢুকিয়ে রোগ চিকিৎসার পদ্ধতি। এটি মূলত একটি চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি যাহা প্রায় ২০০০ বছরের অধিককাল ধরে চীন দেশে একটি নিরাময়িক চিকিৎসা কৌশল হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। ল্যাটিন শব্দ ‘আকুস’ মানে সুচ, ‘পাঙ্কচার’ মানে ফোটানো। অর্থাৎ সুচ ফুটিয়েই আকুপাঙ্কচার করা হয়। সুচ ফুটিয়ে করা হয় বলে অনেকের ধারণা আকুপাঙ্কচার খুব যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা। আকুপাঙ্কচারে সুচ এতই সরু যে ফোটাবার সময় মোটেই যন্ত্রণা হয় না। আকুপাঙ্কচারবিদ্যা মতে মানব শরীরে বারোটি চ্যানেল আছে। এ চ্যানেলগুলির উপরেই রয়েছে আকুপাঙ্কচার পয়েন্টগুলি। চিকিৎসার সময় কিছু ‘ডিস্টার্বড পয়েন্ট’ ও কিছু ‘লোকাল পয়েন্ট’-এর উপর সুচ ফোটানো হয়। আকুপাঙ্কচার করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে তাই ব্যথা কমে যায় বলে ধারণা করা হয়। আকুপাঙ্কচারবিদ্যার প্রাচীনশাস্ত্রে অবশ্য অন্য ব্যাখ্যা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শরীরে ‘পজিটিভ’ ও ‘নেগেটিভ’ দুরকম শক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব হলেই ব্যাধির সৃষ্টি হয়। আকুপাঙ্কচার করে তখন এ ভারসাম্য ফেরাতে হয়। ছয় মাস থেকে নিরানববই বছর, যে কোনো বয়সের রোগীই আকুপাঙ্কচারের যোগ্য। আকুপাঙ্কচার চিকিৎসাবিদরা বলেন এ চিকিৎসায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এ চিকিৎসা কৌশলের প্রয়োগপদ্ধতি, অতিসামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কম খরচের কারণে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি (alternative medicine) হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।

যদিও সাম্প্রতিককালে শুরু হয়েছে, তবু বাংলাদেশে আকুপাঙ্কচার চিকিৎসার জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে, বিশেষত কিছু ব্যতিক্রমী চিকিৎসার জন্য। বেসরকারী উদ্যোগে দেশে কয়েকটি আকুপাঙ্কচার চিকিৎসা ক্লিনিক চালু হয়েছে এবং  পিঠব্যথা, কাঁধ জমে যাওয়া, ঘাড়ব্যথা ও কটিবাতের মতো পেশী-অস্থিগত রোগ, স্নায়ুঘটিত রোগ ইত্যাদি চিকিৎসার জন্য আকুপাঙ্কচার ব্যবহূত হচ্ছে।  [আবদুল গনি এবং মোঃ মুকবিল হোসেন]