সনদ

সনদ  মুগল আমলে সরকারি প্রশাসন প্রক্রিয়ায় ব্যবহূত বহুমাত্রিক শব্দ। সনদ হলো সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সিলমোহর সহ রাজকীয় ঘোষণা। দ্বারা মূল বা হস্তান্তরিত কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা প্রদান, অনুদান বিতরণ, উপাধি পত্রে ভূষিত করণ এবং বিশেষ সুবিধাদি বা অধিকার ঘোষণা বোঝানো হতো। এটি সরকার স্বীকৃত দলিলও বটে যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংস্থাকে উপাধি, পদ, সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি অর্পণ করা হয়। সচরাচর সম্রাট কর্তৃক প্রদত্ত সনদ ‘ফরমান’ বলে অভিহিত হতো। ফরমান দ্বারা তিনি নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতেন। এভাবে ১৭১৭ সালে সম্রাট ফররুখ সিয়ার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে যে সনদ দেন তা ফরমান নামে পরিচিত। একইভাবে ১৭৬৫ সালে সম্রাট শাহ আলম ফরমান দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দীউয়ানি প্রদান করেন। সার্বভৌম নৃপতির নিকট হতে পাওয়া ফরমান-কে ‘সনদ-ই-মিলকিয়াত’ও বলা হতো। সনদ সীমিত সময় বা চিরকালের জন্য কার্যকর থাকতে পারত। সকল জায়গির, জমিদারি, মদদ-ই-মাশ (বিদ্যাচর্চার জন্য ভূমিদান), আলতমঘা (ধর্মীয় কাজের জন্য নিষ্কর ভূমি) সনদ বিতরণের মাধ্যমে দান করা হতো। সম্রাটের প্রতিনিধি হিসেবে  সুবাহদার ও  দীউয়ানগণ তাঁর জ্ঞাতসারে অনুরূপ সনদ প্রদান করতে পারতেন। এরূপ সনদকে সনদ-ই-মুত্তাবিক বলা হতো। উত্তরাধিকারীহীন জমিদার মারা গেলে বা কোন কারণে কোন জমিদার পদচ্যুত হলে সনদ-ই-জমিদার প্রয়োগ করে নতুন জমিদার নিয়োগ করা হতো। কোম্পানির শাসনামলে চুক্তিবদ্ধ পক্ষসমূহের অধিকার ও দায়দায়িত্ব সম্বলিত সকল প্রকার দলিলাদির সাধারণ নাম ছিল সনদ। দেশীয় কর্মচারীরা কোম্পানির চুক্তিবদ্ধ কর্মকর্তাদের সনদি সাহেব বলে আখ্যায়িত করত, কেননা কোম্পানির অধীনে তাদের চাকরি করার শর্তাবলি সর্বোচ্চ পরিচালক সভার  সিলমোহর অঙ্কিত চুক্তিনামায় বর্ণনা করা থাকত। এই চুক্তিটি ছিল দেশীয়দের চোখে একটি সনদ।  [সিরাজুল ইসলাম]